প্রচ্ছদ > বিনোদন >

এবার কি রাজনীতির মাঠে দেখা যাবে শিমলাকে?

article-img

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দেখার পর নায়িকা হওয়ার প্রবল আগ্রহ তৈরি হয় একসময়ের আলোচিত 'ম্যাডাম ফুলি'খ্যাত অভিনেত্রী শামসুন্নাহার শিমলার। মৌসুমী ও সালমান শাহ অভিনীত এ সিনেমাটি বারবার দেখতে থাকেন তিনি। পছন্দের এ সিনেমাটি তার মনে দাগ কাটে। আর তাতেই নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন জাগে শিমলার।

একসময় সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেন তাকেও নায়িকা হতে হবে। পরে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন, নায়িকা হন। আবার প্রথম সেই সিনেমায় পেয়ে যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

একটি গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তার রাজনীতির মাঠে বিচরণ এবং নায়িকা হয়ে ওঠার গল্প জানিয়েছেন শিমলা। কীভাবে নায়িকা হয়েছিলেন তিনি, সেটি যেন সিনেমার গল্পের মতোই বাঁক নেয় তার জীবনে।

কিশোরী শিমলা বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ঝিনাইদহ থেকে পালিয়ে ঢাকায় আসেন। পরিচিতজনের মাধ্যমে গুণী পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার সাহস দেখে পছন্দ হয় পরিচালকের। তাকে কাজে সুযোগ দেন। এরপরেই সিনেমায় নাম লেখান শিমলা।

শহীদুল ইসলাম খোকন ‘ম্যাডাম ফুলি’ সিনেমায় সুযোগ দেন। সিনেমাটি মুক্তির পর শিমলা পরিচিত হয়ে ওঠেন। প্রথম সিনেমাই বাজিমাত করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

এর আগে সেই সময়ের কথা মনে করে শিমলা বলেছিলেন—আমি 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' দেখে নায়িকা হয়েছি। সিনেমাটি দেখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সংলাপ নকল করতাম। মাকে বললাম—আমি নায়িকা হব। মা ভাবলেন—আমি পাগলটাগল হয়ে গেলাম মনে হয়। ভাবলেন আমার মাথা ঠিক নেই। পড়াশোনা গেল গোল্লায়। কোনোমতে এসএসসি পাস করে ইন্টারে ভর্তি হই। সিনেমার নেশায় এরপর আর পড়াশোনা হয়নি।

‘ম্যাডাম ফুলি’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তি ক্যারিয়ারে একের পর একে সিনেমা ধরা দেয়। আর তাতেই পরিবারের বাধা কেটে যায়। এরপর ‘পাগলা ঘণ্টা’, ‘ভেজা বেড়াল’সহ বেশ কিছু সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে জায়গা শক্ত করেন 'ম্যাডাম ফুলি'। অল্প সময়েই ৩৫টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেন শিমলা। পরে ২০১৫ সালের পর থেকে সিনেমায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি।

সিনেমার সংখ্যা প্রসঙ্গে ভাগ্যকে দোষারোপ করে অভিনেত্রী বলেন, আমার সময় পরিচালকরা অন্য নায়িকাদের নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। তারা আমাকে নিয়ে ভাববার সময় হয়ত পাননি। তাই যত বেশি কাজ করা উচিত ছিল, তা করা হয়নি।

তবে ক্যারিয়ার নিয়ে খুব একটা ভাবেননি বলে জানান শিমলা। তিনি বলেন, কখনো শীর্ষেও যেতে চাননি। শুধু নিয়মিত কাজ করে যেতে চেয়েছেন। তা ছাড়া কম কাজের আরও একটি কারণ—অনেক সময় তিনি পছন্দমতো চরিত্র পাননি। এসবে মোটেও বিচলিত নন তিনি।

আমাকে দর্শকরা 'ম্যাডাম ফুলি' নামে বেশি চেনে। একটি চরিত্র হয়ে দর্শকহৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারাটা একজন শিল্পীর অনেক বড় পাওয়া বলে জানান শিমলা।

এদিকে দীর্ঘদিন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে দূরে থাকা অভিনেত্রী হঠাৎ করেই আলোচনায় আসেন। এবার নির্বাচনের সময় হঠাৎ করেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হন। আলোচনার বাইরে থাকা অভিনেত্রী, এবার নেত্রী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন।

কারণ এক বছর আগেও যিনি আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন নিতে সরাসরি দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, এবার তাকেই দেখা যায় ধানের শীষের নির্বাচনি প্রচারে। প্রতীক বদলে মাঠে নামা এ নায়িকার অবস্থান নিয়ে ভোটের মাঠের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও চলছে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা।

এর আগে রাজনীতির সমালোচনা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে শিমলা বলেছিলেন, ‘আমি মোটেও ভোল পাল্টাইনি। আমি একজন শিল্পী—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আর আমি যে কারও জন্য ভোট চাইতে পারি। এমনকি যে কোনো দলের হয়ে নির্বাচনে লড়ার আগ্রহও প্রকাশ করতে পারি—এটাতে মোটেও কোনো সমস্যা দেখছি না। একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই—আমি কোনো দলের কর্মী নই। শিল্পী হিসেবে আমি সবার। যাকে মন চাইবে, আমি তার জন্য ভোট চাইব।